![]() |
২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে ঢাকা বোর্ডে ২৮৬ জন নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং ২৯৩ জন ফেল থেকে পাস করেছে। জানুন বিস্তারিত। |
২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এতে অনেক শিক্ষার্থীর ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। নতুন জিপিএ-৫ পাওয়া ও ফেল থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে আজ রোববার।
পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল ও বিস্তারিত তথ্য
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে তিনজন পূর্বে পাস করা অবস্থা থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। পাশাপাশি ফেল থেকে পাস করেছে ২৯৩ জন।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ৯২,৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী ২,২২,৫৩৩টি খাতার পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ২,৯৪৬ জনের ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের মধ্যে গ্রেড উন্নয়ন, ফেল থেকে পাস এবং পাস থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতামত
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবীর প্রথম আলোকে জানান, "প্রতি বছরই পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন আসে। এটা মূলত মানবিক ভুল বা নম্বর গণনায় ত্রুটি সংশোধনের জন্য করা হয়।"
শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা নীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুনর্নিরীক্ষণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ন্যায্য সুযোগ। পরীক্ষার পর হতাশ শিক্ষার্থীরা এখানে শেষবারের মতো একটি আশা পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক হোসেন বলেন, "এমন ফলাফল প্রমাণ করে যে পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর।"
অতীতের পুনর্নিরীক্ষণের ইতিহাস
পূর্ববর্তী বছরগুলোতেও ঢাকা বোর্ডে একই ধরনের ফলাফলের পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৪ সালে পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছিল প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী। ফেল থেকে পাস করেছিল ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থী।
শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে গড়ে ৩,০০০ এর বেশি শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০-১২ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৮-১০ শতাংশ শিক্ষার্থী নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল পাওয়ার পর অনেকে সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের আনন্দের খবর শেয়ার করছেন। ঢাকার এক শিক্ষার্থী জানায়, "আমি প্রথমে ভেবেছিলাম আমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গেছে। কিন্তু পুনর্নিরীক্ষণের পর পাস করায় আমার নতুন করে পথচলা শুরু হলো।"
একজন অভিভাবক বলেন, "পুনর্নিরীক্ষণ না করলে আমার ছেলের ফলাফল অন্যায়ভাবে কম থেকে যেত। শিক্ষা বোর্ডকে ধন্যবাদ যে তারা এমন একটি সুযোগ দেয়।"
ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা ও প্রক্রিয়ার উন্নয়ন
শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কম সময়ে ফলাফল পাবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে।
এছাড়া, খাতা মূল্যায়নে ত্রুটি কমানোর জন্য শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্ক্যান কপি ও অনলাইন যাচাই প্রক্রিয়া চালু করার উদ্যোগ চলছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজের খাতার স্ক্যান কপি দেখে নম্বর যাচাই করতে পারবে।
উপসংহার
২০২৫ সালের এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল অনেক শিক্ষার্থীর জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কিংবা ফেল থেকে পাস করা পরীক্ষার্থীদের জন্য এটি নতুন সূচনা। শিক্ষা বোর্ডের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা ভবিষ্যতে আরও উন্নত ফলাফল ব্যবস্থাপনার আশা জাগায়।
সূত্র
- ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সরকারি বিজ্ঞপ্তি
- প্রথম আলো, ১০ আগস্ট ২০২৫
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন
ডিসক্লেইমার
এই প্রতিবেদনের তথ্য সরকারি সূত্র এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সংগৃহীত। তথ্য প্রকাশের সময় প্রাপ্ত ডেটার ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন তথ্য যুক্ত হলে ফলাফলে পরিবর্তন আসতে পারে।